দুর্যোগ যেন কাটছেই না দেবভূমি উত্তরাখণ্ড থেকে। প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত গোটা রাজ্যে। আজ উত্তরাখণ্ডে ভারী বর্ষণের লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত উত্তরাখণ্ড চলতি বর্ষায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন ৩৭ জন।
প্রবল বর্ষণে একাধিক জায়গায় হড়পা বান দেখা দিয়েছে। ধস নেমেছে একাধিক জায়গায়। আইএমডি ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্যে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের লাল সতর্কতা জারি করেছে। রেহাই নেই প্রতিবেশী রাজ্য হিমাচল প্রদেশেরও। সেখানেও প্রবল বর্ষণে একাধিক জায়গায় ধস নেমেছে।
বিয়াস নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। তবে আজ সেখানে কিছুটা কমবে বৃষ্টির দাপট। কমলা সতর্কতা এখনও জারি রয়েছে। হিমালচল প্রদেশের মান্ডি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চলতি বর্ষায়। আজও রাজ্যের সব স্কুল কলেজে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি নজরে রেখে বাসিন্দাদের বাড়ির বাইরে বেরোতে অনুরোধ করেছে রাজ্য সরকার।বর্ষার প্রথম থেকেই উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশ প্রবল বৃষ্টিতে ভিজেছে। সেই পরিস্থিতি এখনও জারি রয়েছে। প্রবল বর্ষণের কারণে মাঝে বন্ধ রাখতে হয়েছিল চার ধাম যাত্রা। তারপরে আবার চালু করা হয়। গতকাল গুজরাতের চার তীর্থযাত্রী কেদার যাত্রার পথে ধসে আটকে গিয়েছিলেন। তাঁদের সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। একাধিক জায়গায় ধস নেমে রাস্তা ভেঙে গিয়েছে। উত্তরাখণ্ড এবং হিমাচল প্রদেশে প্রায় ২০০টি রাস্তা বন্ধ হয়ে রয়েছে ধসের কারণে। তার জেরে প্রবল সমস্যায় পড়েছেন বাসিন্দারা।
এদিকে হিমাচল প্রদেশ পুলিশ একাধিক জায়গায় সতর্কতা জারি করেছে। প্রবল বর্ষণের কারণে একাধিক জায়গায় ধস এবং হড়পা বানের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেকারণে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং খাবার নিজেদের ঘরে মজুত করে রাখতে বলা হয়েছে। বাইরে বেরোনো এড়িয়ে ঘরে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।
১৪ অগাস্ট পর্যন্ত উত্তরাখণ্ডে লাল সতর্কতা জারি রয়েছে। ২০৪ মিলিমিটারের থেকেই বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে উত্তরাখণ্ডের সব জেলাতেই। গতকাল ৬ জেলায় লাল সতর্কতা জারি ছিল। ১৪ অগাস্ট গোটা রাজ্যেই লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিকে আবার হিমাচল প্রদেশের ৫ নং জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে রয়েছে ধসেরক কারণে। সেই সঙ্গে ২০৫ নম্বর জাতীয় সড়কও ধসে বন্ধ।


0 মন্তব্যসমূহ