Suvendu Adhikari:- নন্দীগ্রাম ১ নং পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠনের আগে শুভেন্দু অধিকারী বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন। মালের দায়িত্ব আরোহীর কথা মনে করাতেই কাঁপুনি ধরেছে শাসক তৃণমূলের অন্দরে। ফলে আগামী দিনে জমজমাট খেলার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।
নন্দীগ্রাম ১ ও ২ নং ব্লক মিলিয়ে পঞ্চায়েত সমিতির মোট আসন ৫১। তার মধ্যে নন্দীগ্রাম ২ নং ব্লকের ২১টি আসনে বিজেপি জিতেছে ১৪টিতে, তৃণমূল কংগ্রেস সাতটিতে। নন্দীগ্রাম ১-এ ৩০টি আসনে দুই দলই জিতেছে ১৫টি করে আসনে।
নন্দীগ্রাম ১ নং ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির আসনে জয়ী ১৫ বিজেপি প্রার্থী কলকাতা হাইকোর্ট থেকে রক্ষাকবচ পেয়েছেন। মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেফতারির আশঙ্কা করেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। মিলেছে ১৬ অগাস্ট অবধি রক্ষাকবচ। এই দিনের মধ্যেই ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আজ নন্দীগ্রামে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর 'মন কি বাত' শোনার পর শুভেন্দু বলেন, আমাদের প্রার্থীদের যে রক্ষাকবচ নিতে হয়েছে এটাই লজ্জার। বোর্ড গঠনের যা পদ্ধতি তাই মেনেই হবে। দুই দলের ১৫ জন করেই ভোট দিলে সভাপতি নির্বাচনে টস হয়। আমাদের জেতা প্রার্থীরা আদর্শগত লড়াই লড়েছেন। তাঁরা একসঙ্গেই ভোট দেবেন।
জিতবেন চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান বাছাইয়ের সময় তিনি সভাপতিত্ব করবেন। সভাপতি নির্বাচনের সময় ইলেকশন অফিসারের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ রাজি হলে টস হবে, বা লটারিতে নাম লিখে তৃতীয় পক্ষ দিয়ে তোলা হবে। যে দল জিতবে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান সেই দলের হবে।
কেন না, সভাপতির কাস্টিং ভোট থাকে। ব্যালট সমান-সমান হলে সভাপতির কাস্টিং ভোট গুরুত্বপূর্ণ। শুভেন্দু জানিয়ে দেন, আমাদের ১৫ জন এককাট্টা। তাঁরা একসঙ্গেই থাকবেন, ভোট দেবেন। যদিও ওদের (তৃণমূল) ১৫ জনকে ঠিক রাখার দায়িত্ব আমার নয়। মালের দায়িত্ব আরোহীর। শুভেন্দুর বক্তব্যের শেষটুকুই কাঁপুনি ধরাচ্ছে তৃণমূলে। কোন দুসরা বা গুগলি অপেক্ষায় রয়েছে, সেটা নিয়েই চলছে জল্পনা।
পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট লুঠ নিয়ে এদিনও সরব হন শুভেন্দু। বলেন, পুলিশ, বিডিওরা তৃণমূলের গুন্ডাদের নিয়ে ভোট লুঠ করেছে। বিডিওরা ব্যালট বদলেছেন। জনগণের করের টাকায় বেতন পাওয়া এমন নির্লজ্জ, নগ্ন পুলিশ, আমলা ভূভারতে কোথাও নেই। ভবিষ্যেতও এমন কাউকে পাবেন না। নন্দীগ্রাম ১-এ মাঝরাতে ছাপ্পা মেরে একটা জেলা পরিষদ সিট নিয়েছে।
Read more :- Chandryan 3
কেন্দামারি গ্রাম পঞ্চায়েতেও বিজেপির জয়ী প্রার্থী সার্টিফিকেট না দিয়ে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয় বলে দাবি শুভেন্দুর। তিনি বলেন, তৃণমূল চোর, পুলিশ-বিডিওদেরও সেরকম বানিয়েছে। আমরা নজরদারি, ভয়ঙ্কর চাপ বজায় রেখেছিলাম। তাই এখানে ১০০ শতাংশ চুরি করতে পারেনি। ১০-২০ শতাংশ করেছে।
শুভেন্দুর কটাক্ষ, তৃণমূল কয়লা, গরু, বালি, পাথর, চাকরি, ব্যালট খেয়েছে। এবার এরা প্র্যাকটিস করছে লোকসভা নির্বাচনে ইভিএম খাওয়ার। এদের তাই তাড়ানো ছাড়া পরিত্রাণ নেই। তিনি রাজ্য বিজেপি সভাপতি হচ্ছেন কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু বলেন, আপনাদের সূত্রকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন। আমি এ সবে আগ্রহীও নই। আমি আমার কাজ করি।



0 মন্তব্যসমূহ