বিষয়:- মহাজোট 'ইন্ডিয়া'র ২১ জন সাংসদ রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মণিপুরের সঙ্কট নিয়ে সরব বলেন। তাঁদের দাবি, পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে, এবার একটা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। জাতি-সংঘর্ষে বিধ্বস্ত মণিপুরে দুদিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে ইম্ফলের রাজভবনে মণিপুরের রাজ্যপাল অনুসুইয়া উইকের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা।
মণিপুরের ত্রাণ শিবির পরিদর্শনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। প্রথম দিনে বিরোধী দলগুলির ২১ জন সাংসদ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে দেখা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যতিতাদের সঙ্গে। তারপর রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে একটি স্মারকলিপি পেশ করেছেন তাঁরা।
৩ মে থেকে মণিপুরে জাতি-দাঙ্গা চলছে। তিন মাস হতে চলল নিস্তার নেই রাজ্যের। অবাধে মরছে মানুষ। বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালাচ্ছেন অনেকে। কত মানুষ আহত, নিখোঁজ। তারপরও যাঁরা রয়ে গিয়েছেন তাঁদের নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। এইসবই তাঁরা উপস্থাপনা করেছেন রাজ্যপালের কাছে।
এদিন রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করার পর 'ইন্ডিয়া'র প্রতিনিধি হিসেবে কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, রাজ্যপাল তাঁদের আবেদন শুনেছেন। কংগ্রেস সাংসদ সঙ্কট সমাধানের জন্য সমস্ত সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে একটি সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলের মণিপুর সফরের পরামর্শ দিয়েছেন।
মণিপুরের ঘটনায় সবাই বেদনাহত। মণিপুরের ঘটনা সবার চোখে জল এনে দেবে বলে তিনি জানিয়েছন রাজ্যপালকে। খুব শীঘ্র এর একটি স্থায়ী সমাধান করা জরুরি। সবাই মিলে একসঙ্গে এর সমাধান করতে হবে। তা না হলে জাতীয় নিরাপত্তায় উদ্বেগ আরও বাড়বে।
অধীর চৌধুরী এর আগে মণিপুরের সঙ্কট নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের সরকারকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বিঁধেছিলেন। তিনি বলেন, রাজ্য ও কেন্দ্রেই একই সরকার রয়েছে, ডাবল ইঞ্জিন সরকার চলছে, তারপরও কেন এই পরিস্থিতি। সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার রক্ষায় শীঘ্রই স্থায়ী সমাধান খুঁজতে হবে।
কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী, তৃণমূলের সুস্মিতা দেব, আরজেডির মনোজ ঝা থেকে শুরু করে বাকিরাও একযোগে রাজ্যপালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জানান। মণিপুরকে বাঁচান, মণিপুরবাসীকে রক্ষা করুন। এখনও কেন কেন্দ্র হাতগুটিয়ে বসে রয়েছে, কেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নীরব রয়েছেন!
ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা বলেন, আমরা ত্রাণ শিবিরগুলিতেও ঘুরে দেখেছি কী নিম্নমানের ব্যবস্থা। ৪০০-৫০০ লোক এক জায়গায় অবস্থান করছেন। রাজ্য সরকার শুধু তাদের চাল ও ডালের জোগান দিয়েই ক্ষান্ত। সারাদিন তাঁরা আর কিছু পাচ্ছেন না। শিবিরে যেভাবে সবাই বাস করছে, তা হৃদয়বিদারক।
ইন্ডিয়ার ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি ইম্ফল, বিষ্ণুপুর জেলার মইরাং ও চুরাচাঁদপুর ত্রাণ শিবির পরিদর্শন করে। শনিবার প্রতিনিধি দল মণিপুরে পা রেখেই জানিয়ে দেয়, তারা রাজনীতি করতে এখানে আসেনি। অধীর চৌধুরী জানিয়েছিলেন, জনগণের প্রত্যাশা বুঝতে চাই। আমরা চাই সংসদে তা প্রতিফলিত করতে। জনগমের পাশে দাঁড়াতে। বিজেপি ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি দলের এই সফরকে রাজনৈতিক পর্যটন বলে কটাক্ষ করে।


0 মন্তব্যসমূহ